আষাঢ়ে ফোটে গাছে গাছে কদম ফুল

0
233
আষাঢ়ে ফোটে গাছে গাছে কদম ফুল

বিপ্লব হাসান রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। ষড়ঋতুর লীলার মধ্যে বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্রে বর্ষাকাল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বসন্তকে ঋতুরাজ বললেও রূপের গৌরর ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্য বর্ষাই প্রকৃতির রানী। বর্ষার আগমনে খালবিল জলমগ্ন হয়ে যায়। বর্ষায় খাল-বিলে শাপলা ফুটে হাসতে থাকে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ডুবিয়ে ডুবিয়ে শাপলা-শালুক কুড়ায়, যেন ডুবসাঁতার হার মানায় পানকৌড়িকেও। তাই বর্ষাকাল বাঙালির প্রিয় ঋতুর একটি।

আর এই বর্ষাতেই কদম ফুলের সিগ্ধ ঘ্রাণ যুগে যুগে শহর কিংবা গ্রামবাসীদের মুগ্ধ করে। বর্ষা এলে গাছে গাছে ফোটে কদম ফুল, চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ফুল প্রেমিদের। খাল-বিলের উপচে পড়া পানি যেমন শাপলাকে সাজায়, তেমনি চারপাশের পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে বর্ষার কদম ফুল। কদম নামটি এসেছে এর সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো “যা বিরহীকে দুঃখী করে” প্রাচীন সাহিত্যেও একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল ,চীন ও মালয়ে।

কদম মূলত আলংকারিক গাছ হিসেবে জনপ্রিয়। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। তাই বর্ষা মানেই হলুদ -সাদা মিশ্র রঙের কদম ফুলে গাছ ছেয়ে যাওয়া। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস। কদম গাছের শাখায় পাতার আড়ালে ফুটে থাকা অজ¯্র কদম ফুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ কারণে কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। এ বছর বর্ষার আভাস এখনো পর্যন্ত তেমন একটা না পেলেও গাছে গাছে স্বর্ণগোলক কদম ফুটে গিয়েছে প্রকৃতির নিয়মে। বর্ষা এবং কদম ফুলের প্রসঙ্গ এলেই যেন এগুলোর সাথে একাকার হয়ে মিশে রবীন্দ্রনাথ! বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অসংখ্য কবিতা, গান, নাটকে স্থান দিয়েছেন বর্ষাবন্দনা এবং কদম ফুলকে। বর্ষা উৎসবেব সংগীত মানেই যেন রবীন্দ্রসংগীত! আর বর্ষা উৎসবের রবীন্দ্রসংগীত মানেই হলো কদম ফুলের সুরভীমাখা পঙক্তিমালাগুলো!। কদম ফুলের আরেক নাম হল নীপ ।

ফুলের সৌন্দর্যের মতো আরো কয়েকটি সুন্দর নাম রয়েছে- যেমন বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি, সিন্ধুপুষ্প ইত্যাদি। কদম বর্ণে ,গন্ধে, সৌন্দর্যে এ দেশের ফুল গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। গাছের উচ্চতা ৪০ থেকে ৫০ ফুট। প্রস্থ ঊর্ধ্বে ৫থেকে ৭ফুট।

কদম গাছের পাতা লম্বা, উজ্জ্বল সবুজ ও চকচকে। কদম ফুল টেনিস বলের মতো গোলাকৃতি লম্বা বৃন্তে দন্ডায়মান, ফুলের রঙ হলুদ সাদায় মেশানো। এই ফুলের ভেতরের ভাগে রয়েছে মাংসল পুষ্পধার। পুরো ফুলটি একটি ফুল মনে হলেও এটি আসলে অসংখ্য ফুলের গুচ্ছ।

এ ফুলের ভেতরের মাংসল পুষ্পাধার হলুদ রঙের ফানেলের মতো, যাতে পাপড়িগুলো আটকে থাকে । পাপড়ির মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগদন্ড। কদমের ফল অনেকটা লেবুর মতো টক। এগুলো বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। হলুদ-সাদা কদম ফুল গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে দেখায় সোনার বলের মতোই। বিশ্বের নানা দেশে কদমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন- চীন, ভারত , বাংলাদেশ , নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বড়িয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালোশিয়া, পাপুয়ানিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পুর এশিয়ার বৃহত বৃক্ষগুলোর মধ্যে একটি হলো কদম।কদমগাছ বৌদ্ধ ধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ফুলে ভরা কদম গাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য তেমন একটা নেই। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও বাক্সপেটরা তৈরি হয়ে থাকে। গাছের ছাল জ্বরের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে কদমফুলের তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here