উলিপুরে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সাবেক এমপি’র

0
9
উলিপুরে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সাবেক এমপি’র

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের পাল্টা পাল্টি অভিযোগে উত্ত্যপ্ত হয়ে উঠেছে মাঠের রাজনীতি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এতে করে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। ফলে যে কোন সময় আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন তালুকদার নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও

উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনে থেকে লড়াই করেছি। ওই সময় দলের নেতা-কর্মী ও আমার পরিবারের উপর জেল-জুলুমসহ নানা ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। বর্তমানে যারা এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে তারা সেই সময় কোথায় ছিলেন। দূর্দিনের ত্যাগী নেতা কর্মীদের এখন অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। সর্বত্রই অন্যায় ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। তারা আত্বিয়-স্বজনদের পৌর ও ইউনিয়ন

কমিটিতে বিভিন্ন পদে বসিয়েছেন।তিনি বলেন, বর্তমান এমপি অধ্যাপক এম এ মতিনের আপন বড় ভাই আব্দুল করিম কুখ্যাত রাজাকার। এমপি নিজেই এক সময় ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন। ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান এমপি বঙ্গবন্ধুর নামে টির্চাচ ট্রেনিং কলেজ খুলেছিলেন। ওই সময় আমি কলেজের গর্ভণিং বডির সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে উনি (এমপি) বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান নিজের নামে (এমএ মতিন কারীগরি ও কৃষি কলেজ) খুলে বসলেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর নামের

সাথে প্রতারনা করতে পারেন, তারা কি করে আওয়ামীলীগ হতে পারে। এমপি সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে কমিশন নিচ্ছেন এমনকি স্থানীয় কৃষকের নামে বরাদ্দকৃত ধানেরও ভাগ খাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু দল ক্ষমতায় থাকার পরও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পারেননি। তিনি বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে দলে জায়গা দিয়েছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নমিনেশন দেয়ার সময় বানিজ্য করেছেন। এ কারনে ১৩টি ইউনিয়নের

মধ্যে মাত্র ২টি ইউপিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া দশম জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে অসুস্থ্যতার ভান করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করেন। এভাইে নানা অপকর্মের মধ্যে দিয়ে দলের নাম ব্যাবহার করে নিজের আখের গুছিয়েছেন। তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেন। যা দলের ত্যাগি-নেতাকর্মীরা প্রত্যাখান করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, মন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান)-মতিন (এমপি) যেখানে জনগন

নেই সেখানে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতি শিউলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলায়মান সরদার বাদশা, উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য বাবর আলীসহ পক্ষীয় নেতা-কর্মীরা।গত ২১ ফেব্রুয়ারী নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন তালুকদার দল ও রাজনীতিতে অবমূল্যায়নের শিকার হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওই সাবেক এমপি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও

আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টুসহ দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে আবারো সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন তালুকদার তার বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।
উলিপুর আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরায় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। ফলে যে কোন সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here