“একজন ভালো মানুষের রক্তের ছাপ রাজপথে কেন ? এর দায়ভার নিবে কে ?”

0
57
একজন ভালো মানুষের রক্তের ছাপ রাজপথে কেন

আরিফুল ইসলাম সুমন, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : আমরা দিন দিন কতো হিংস্রতার পরিচয় দিচ্ছি, তা দেখে আজ মুখ লুকাতে ইচ্ছে করছে। আজ (৭আগস্ট) সরাইল সদরের রাজপথে একজন ভালো মানুষের রক্তের ছাপ দেখে লজ্জায়, ঘৃণায় নিজেকে ছোট এবং অপরাধী মনে হলো; এই কারণে আমারও জন্ম হয়েছে সরাইলের মাটিতে।

হ্যাঁ, আমি সরাইল থানার নবাগত ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু সাহেবের কথা বলছি। দায়িত্বপালন করতে এসে লোকটি রক্তাক্ত হয়ে এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। এই অবস্থায় সরাইলের নীতি নির্ধারকরা এখন কি জবাব দেবেন ? দুই দলের মারামারির খবর শুনে লোকটি দুপুরের খাবার ফেলে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

এসময় দাঙ্গাবাজরা তাঁর প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারে। এতে মাথায় পরিহিত পুলিশের হেলমেট ভেঙ্গে তিনি মুখমণ্ডলে প্রচণ্ড আঘাত পান। অতিরিক্ত রক্তক্ষণের কারণে তাঁকে সরাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।

আমার প্রশ্ন, যারা এই দুঃসাহসিক অপকর্ম করেছে তারা কারা ? তাদের প্রশ্রয়দাতা কে কে ? কার শক্তিতে তারা এই কাজটি করার সাহস পেয়েছে ? এসব খতিয়ে বের করা উচিত।

আমি বলতে চাই, ওসি নিজে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখানে কারো বাড়িঘর লুটতরাজ করতে যাননি। কোন মানুষকে পিটিয়ে আহত করতেও যাননি। তিনি গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ! এই ভালো কাজটির জন্যে একজন আইন রক্ষকের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো হলো কেন ? কিসের স্বার্থে ? এসব প্রশ্নের জবাবও খুঁজতে হবে।

আজ আমরা দাঙ্গাবাজ ! সরাইল দাঙ্গা প্রবন এলাকা ! এই লজ্জাস্কর অপপ্রচার সৃষ্টির পেছনে কে কে দায়ী ? এরও সমাধান হওয়া উচিত। আমি মনে করি, এর জন্য একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বেশি দায়ী !

কারণ হিসেবে আমি বলবো, ইতিপূর্বে সরাইলে যতগুলো দাঙ্গা-হাঙ্গামা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এসবের কারণে বহু মানুষ হতাহত সহ বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাংচুর-লুটতরাজ হয়েছে, এর একটি ঘটনারও আইনসম্মত বিচার হয়নি। অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। এসবের অনেক ঘটনায় পুলিশের অসংখ্য সদস্য আহত হওয়ার পর, পুলিশ বাদী হয়ে এখানে যতগুলো মামলা করেছে, এর একটিতেও উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। উপরন্তু এসব মামলা নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে, এখনো হচ্ছে।

পরিশেষে বলবো, একের পর এক এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দূর্বল সালিশ-বৈঠক, রাজনৈতিক তদবির, ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, দায়িত্বশীলদের অবহেলা, সচেতনতার অভাব, যুবসমাজের অবক্ষয়, সঠিক আইন প্রয়োগে বাধাগ্রস্ত ইত্যাদি কারণে আজ সরাইলে একের পর এক দাঙ্গা, হাঙ্গামা ও সংঘর্ষ ঘটেই চলেছে। আর আমরা কাগুজে-কলমে দাঙ্গাবাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে বিভিন্ন ফাইলের স্তুপ ভারি করেই চলেছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here