কুড়িগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ১ হাজার ৫’শ ৪৯ ভুমিহীন পরিবার

0
6
কুড়িগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ১ হাজার ৫'শ ৪৯ ভুমিহীন পরিবার

হাফিজ সেলিম উলিপুর,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জেলার ১ হাজার ৫শ ৪৯ জন ভুমি ও গৃহহীন পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়েছেন । ধসে পরা রানা প্লাজায় নিহত রুবিনাও এ উপহার পেয়েছেন। জীবনেও যারা কোনদিন ভাবেনি জমি ও আধাপাকা ঘরের মালিক হবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাদের হাতে আধাপাকা ঘরের চাবি তুলে দিয়ে আজ সেই অসাধ্যকেই সাধন করলেন। এখন পাকা ঘরের মালিক এসব ভুমিহীনরা। সাবাস বাংলাদেশ। কুড়িগ্রামে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে প্রতিবছরই অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়। বসতভিটা ও ঘর হারানো এসব পরিবারের ঠাঁই হয়েছিল বাঁধ, সরকারী খাস জমি ও অন্যের ভিটার ঝুপড়ী ঘরে। এভাবেই রোদ, বৃষ্টি ও শীত কষ্টে জীবন কেটে যায় তাদের। হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা ঘর ও জমির মালিক হয়ে

আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার থেকে বাদ যায়নি ঢাকার বহুল আলোচিত “রানা প্লাজা” দুর্ঘটনায় নিহত রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের একমাত্র কর্মক্ষম নারী রুবিনার অসহায় পরিবারও। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রানা প্লাজা ধ্বসে নিহত রুবিনার ছেলে হৃদয় জানায়, আমি ছোট থাকতে আমার মা রানা প্লাজায় নিহত হয়েছে। আমার বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সেখানে সংসার করছে। আমি আমার নানীর কাছে বড় হয়েছি। আমার এক বড় বোন ছিল তাকেও নানী বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কোন জায়গা জমি নেই। প্রধান মন্ত্রী জমিসহ আমাদের ঘর দিয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। রানা প্লাজায় নিহত রুবিনার মা ছাবিজন জানান, দুইটি ছোট বাচ্চা আমার কাছে রেখে আমার মেয়ে রুবিনা রানা প্লাজায় চাকরী করতো। সেখানে এক বছর চাকরী করার পর রানা প্লাজা ধ্বসে তার মৃত্যু হয়। পরে

তার লাশ পর্যন্ত আমি পাইনি। এরপর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার সহযোগীতা করলে প্রধানমন্ত্রী ৪ লাখ টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে রুবিনার ছেলে মেয়েদের বড় করে মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটাকে লেখাপড়া করাচ্ছি। এখন প্রধানমন্ত্রী জমিসহ ঘর দিল। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ্ যেন তাকে যুগ যুগ বেঁচে রাখেন । এদিকে জেলার ৯ উপজেলায় ঘর ও জমি পাওয়া পরিবারগুলো স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানান, আমাদের মাথা গোঁজার কোন ঠাই ছিলনা। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিয়ে মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিন জানান, রাজারহাটে রানা প্লাজায় নিহত রুবিনার পরিবারসহ ৭০ জন ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আধাপাকা ঘরসহ ২ শতক করে জমি দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগে অংশিদার হতে পেরে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর জেলার ৯ উপজেলায় ১ হাজার ৫শ ৪৯ জন ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে নিজ নিজ উপজেলা থেকে আধাপাকা ঘর ও জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন পরবর্তীতে তারাও ঘর পাবেন বলে জানান তিনি।জেলা প্রশাসন সুত্র জানায় জেলার সদর উপজেলায় ২০০ পরিবার, রাজারহাট উপজেলায় ৭০ পরিবার,

ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৬৫ পরিবার, নাগেশ্বরী উপজেলায় ২৬৪ পরিবার, ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ২০০ পরিবার, উলিপুর উপজেলায় ২০০ পরিবার, চিলমারী উপজেলায় ১০০ পরিবার, রৌমারী উপজেলায় ৫০ পরিবার ও চররাজিবপুর উপজেলায় ৩০০ পরিবারের প্রত্যেককে ২ শতক জমিসহ দুটি রুম, বাথরুম, রান্না ঘর, সেমিসহ একটি করে আধাপাকা ঘর দেয়া হয়েছে। এ জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাদ পড়া সকল অসহায় ও সহায় সম্বলহীন পরিবার যেন এ মাথা গোজার ঠাঁই পায় এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here