কুয়েতে যেতে ৬ লাখ: প্রতারনায় বিপাকে অসংখ্য শ্রমিক

0
11
কুয়েতে যেতে ৬ লাখ: প্রতারনায় বিপাকে অসংখ্য শ্রমিক

ক্রাইম অনুসন্ধান ডেস্কঃ দেশে স্বচ্ছলতার কোন আশা ভরসা না পেয়ে, আয়ের উৎস না দেখে অবশেষে দেশের গন্ডি ছেড়ে অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশের পথে। অনেকে নিজের সঞ্চিত সকল অর্থের বিনিময়ে স্বপ্নের দেশের কথা চিন্তা করলেও পারছেন না সেই বহু প্রত্যাশিত দেশে যেতে। বাংলাদেশ থেকে একজন শ্রমিক কুয়েতে যেতে ছয় লাখ টাকার বেশি খরচ পড়ে যায়। আবার সেখানেও থাকে দালালের প্রতারনার ফাদ। দালালের খপ্পরে পড়লে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু দুই বছরের চুক্তিতে পাড়ি জমানো এসব কর্মী তাদের ব্যয় করা পুঁজির টাকাই তুলতেই রুজির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ বাড়াতে লাগছে নতুন করে অর্থ। যে সব জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কুয়েতে উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠাচ্ছেন তাদের ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের স্বচ্ছ নজরদারি বা মনিটরিং করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কারণে ঐ দেশে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক অনেক শ্রমিক চাকরি, বেতন-ভাতা, থাকা, খাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে আবার ফ্রি ভিসার জটিলতায় পড়ে আকামার পাবার জন্য পথে পথে ঘুরছেন। যদিও আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ ভারত ও নেপাল থেকে সোয়া লাখ টাকায় একজন শ্রমিক যেতে পারছে। তাদের দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কম টাকায় কর্মীরা যেতে পারছেন। যেটি বরাবরের মতো বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যর্থ হচ্ছে বলে স্থানীয় ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছেকুয়েতে একজন শ্রমিক যেতে খরচ হচ্ছে ৬ লাখ। একজন শ্রমিক যদি ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে কুয়েতে গিয়ে উপার্জন করেন সব মিলিয়ে ২০ হাজার টাকা তাহলে তার ধার করা ৬ লাখ পরিশোধ হতে কতোদিন লাগবে। বিগত কয়েকদিন ধরেই কুয়েত থেকে বাংলাদেশী একাধিক টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা নাম না প্রকাশের শর্তে ‘কুয়েতের শ্রমবাজার’ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, কুয়েতে যারা শ্রমিক হিসেবে আসছে তাদের মধ্যে এখন অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আছেন। কেউ আছেন চাকরির সমস্যায়। কেউ আছেন আকামা সমস্যায়। তারা বলেন, ফ্রি ভিসার (বলদিয়া) নামে এসে আকামা না হওয়ার কারণে অনেকেই বেকার অবস্থায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে অনেকে কারাগারে বন্দী আছেন। প্রতারিত হওয়া এসব শ্রমিক কত টাকা খরচ করে কুয়েতে গেছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, যারা দালালদের (মামা, খালু) মাধ্যমে ভিসা সংগ্রহ করে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রসেসিং করে এসেছে, তাদের প্রত্যেকে ছয় লাখ টাকার কমে আসতে পারেনি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দুই বছরের চুক্তিতে এসে এসব শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থাকা-খাওয়া বাদ দিয়ে পুঁজির অর্ধেক টাকাও আয় করতে পারছেন না। আসার পর তারা কান্নাকাটি করেন। তখন আর তাদের কান্না শোনার লোক থাকে না। এক প্রশ্নের জবাবে নাম না প্রকাশের শর্তে, একজন শ্রমিক বলেন, প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ডিউটি করলে মাসে কুয়েতি ৬০ দিনার বেতন পায়। আবার যারা ১৫-১৬ ঘণ্টার কাজের ভিসায় আসছেন তারা ৯০-১১০ দিনার বেতন পাচ্ছেন। এক দিনার সমান বাংলাদেশী ২৭৪ টাকা। ওই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, একজন শ্রমিক মাসে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা উপার্জন করতে পারছেন। ভাগ্য ভালো থাকলে ওভারটাইম পেয়ে যান। সবমিলিয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত একজন শ্রমিক কামাই করতে পারছেন। কিন্তু সে জেনে হোক আর না জেনেই হোক মামা খালুর পাঠানো ভিসাতেই ছয় লাখ (বিমান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ) টাকা খরচ করেই এ দেশে আসতে হচ্ছে। এর কমে কেউ আসছে না বলে তারা দাবি করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here