ঝিমিয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত পোশাক শিল্প

0
12
ঝিমিয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত পোশাক শিল্প

ক্রাইম অনুসন্ধান ডেস্কঃ  দেশে উৎপাদনের বৃহত্তম খাত হিসেবে পরিগনিত পোশাক শিল্প। এই খাতে নানান জটিলতার কারনে বিগত দিনের সুনাম ও আয় বৃদ্ধি দিনে দিনে কঠিন থেকে আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। দিন বদলের পালে নতুন হাওয়া ও রুচির পরিবতনের সাথে সাথে পোশাকের বাহারী পরিবর্তন আসায় সেই সাথে পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় এর মূখ্য কারন হতে পারে বলে অনেকের ধারনা। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি, ছোট ছোট অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যয়, ইমেজ সঙ্কটসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের ৪৪ লাখ তরুন শ্রমিকের জীবন আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে মেশিন-কারখানা আর মালিকসহ সরকারের সঙ্গে। পোশাক শিল্প এমনই এক শিল্প যার অধিকাংশ শ্রমিক তরুন। এসব ভাবনায় ইতিহাসের শরণাপন্ন হই। পোশাক কারখানার সূত্রপাত যে আমেরিকা শহরে সেখানে চোখ ফেরাই। তাগিদ বোধ করি আমেরিকা-ইউরোপ থেকে এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো মহাদেশে পোশাক কারখানা স্থানান্তরের কারণ বোঝার। উৎসুক হই, মহাসমুদ্রের ওপার থেকে এপারে কারখানা স্থানান্তর আমাদের দেশের তরুনদের জীবনে কী প্রাপ্তিযোগ ঘটিয়েছে তা অনুসন্ধানে। ইতিহাসের পথ ধরে তাই ট্রায়াঙ্গল কারখানার আগুন লাগা এবং প্রাণহানির ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাই। ফিরে তাকাই রানা প্লাাজা ট্রাজেডিতে। রানা প্লাাজা ধসপরবর্তী প্রেক্ষাপটে টেকসই শিল্পের পথে নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একরকম হাঁপিয়ে উঠেছে এ শিল্প। এর মধ্যেই ঝরে গেছে প্রায় দেড় হাজার ছোট ও মাঝারি কারখানা। গত চার মাসেই বন্ধ হয়েছে দেশের ৩৫টিরও বেশি পোশাক কারখানা। প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের কারখানাগুলোর ক্রয় আদেশ কমে যাওয়াই এসব পোশাক কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে নতুন কাঠামোতে বেতন পরিশোধে বেগ পোহানো, শ্রমিক বিক্ষোভ ও শেয়ার্ড বিল্ডিং ব্যবহারের মতো কারণও রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) হাত ধরে এ শিল্পের গোড়াপত্তন ও পরবর্তী বিকাশ হলেও এখন এই শিল্পকে আর এসএমই বলা সম্ভব নয়। ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই শিল্পের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের কাছে নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। সেই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে সরকারের অন্তত ৫ বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ করারও দাবি তাদের। দেশের অবকাঠামো বিশেষ করে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে দেশের পোশাক খাতের ইমেজ সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহায়তাও চেয়েছেন তারা। অন্যদিকে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের ক্রেতাদের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। বেসিক পোশাক থেকে বেরিয়ে এসে উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য আরো বিনিয়োগ দরকার হবে এ শিল্পের। তবে দেশে যে প্রায় ৩০০ গ্রিন কারখানা তৈরি হয়েছে, এগুলো বিশ্ববাজারে দর কষাকষিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক তথা ওভেন ও নিট পোশাক খাত থেকে। যদিও এই একক পণ্যনির্ভরশীলতা রফতানি খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তবু দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে এই খাতই। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পরে নানা চড়াই-উতরায় পেরিয়ে এই খাত থেকে রফতানি আয় ফের বাড়তে শুরু করেছে। মাঝখানে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি আয়ে ধস নেমেছিল। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যমতে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত ৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিগত ৫ বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের রফতানি আয় ইতিবাচক। যদিও এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির টার্গেট অর্জন হওয়া অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা সম্প্রতি এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যাতে ২০১৯-২০ সালে বিশ্ববাণিজ্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির নানা অস্থিরতার ফলেই ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে বাণিজ্য তিন শতাংশ কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হচ্ছে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ১১ শতাংশ বেশি।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিগত চার বছরে বিশ্বে পোশাকের বাজার ২ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি পোশাকের দরপতন হয়েছে আশঙ্কাহনকহারে। ৫ বছরে আমেরিকার বাজারে পোশাকের দাম কমেছে ৭ শতাংশ। আর ইউরোপে কমেছে সাড়ে তিন শতাংশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশে পোশাকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে রফতানিকারকদের। বিজিএমইএর তথ্যমতে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে পোশাক খাতে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু এ সময় ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। মূলত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত পিছিয়ে পড়ছে। তবে চীন এ শিল্প থেকে বেরিয়ে আসছে। ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি এখন নেতিবাচক। এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। অভ্যন্তরীন সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনের বাজারে ভাগ বসানো সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টাকার বিপরীতে ডলারের অবমূল্যায়ন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রবন্দরসহ রাস্তা-ঘাটে দুর্বল অবকাঠামো ও সক্ষমতার অভাবে এক অসম প্রতিযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। ডব্লিউটিওর বরাত দিয়ে বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময় ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বেড়েছে ০.০৪ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর মুদ্রার মান কমে গেছে। যেমন ভারতের রুপির দাম এ সময় কমেছে ৪৭ শতাংশ, পাকিস্থানি রুপির কমেছে ৩৭ শতাংশ, ভিয়েতনামের ডংয়ের দাম কমেছে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, চীনের ইয়ানের কমেছে ৯ শতাংশ। মূলত রফতানিতে ডলারে আয় হলেও অধিকাংশ ব্যয় হয় স্থানীয় মুদ্রায়। এর ফলে ডলারের দাম বাড়লে রফতানিকারকদের মুনাফা বেশি হয়। অন্যান্য দেশ এই সুযোগ পেলেও বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।অন্যদিকে ৪ বছরে উৎপাদন খরচ বেড়েছে নানাভাবে। এ সময় মজুরিতে খরচ বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদ্যুতে খরচ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গ্যাস খরচ ৫ শতাংশ এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে প্রতিবছর পোশাকের দাম কমেছে ০.৭৪% হারে।এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বজারে পোশাক খাতের পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া এবং পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতার ক্রমাগত চাপের ফলে, বৈশ্বিকবাজারে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য তৈরি পোশাক খাতের সব পণ্যের (প্রচলিত ও অপ্রচলিত) জন্য ৫% হারে নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোরারোপের পাশাপাশি আগামী ৫ বছরের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম এবং পণ্যের কম মূল্যের কারণে এ খাতের উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।আশির দশকে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু রানা প্লাজা ধসপরবর্তী প্রেক্ষাপটে এ শিল্পে এসএমই উদ্যোক্তাদের জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। মূলত সংস্কার কাজের বিশাল যজ্ঞের মধ্যে তারা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। ব্র্যান্ডগুলোর দেয়া শর্ত অনুযায়ী একটি নিরাপদ কারখানায় বিনিয়োগ করতে হচ্ছে শত কোটি টাকার ওপর। একেকটি কারখানা শুধু সংস্কার করতেই গড়ে খরচ হচ্ছে ৫ কোটি টাকা। যা এসএমই উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, কমপ্লায়েন্সের মান নিশ্চিত করতে না পারার কারণে ৪ বছরে প্রায় ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।এ প্রসঙ্গে কথা হয় পোশাক খাতের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, নতুন কোনো এসএমই উদ্যোক্তাকে আমরা আর এ সেক্টরে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি না। তবে একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এটি সুখকর নয়। কারণ, এসএমই খাত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, একজন ছোট উদ্যোক্তা এখানে এসে ব্যবসা শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করত এবং নিজেদের ব্যবসাও বাড়াত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। এখন শুরুতেই বৃহৎ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। একজন অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য নতুন উদ্যোক্তা এখানে আসছে না। তবে যাদের ব্যবসা আছে তারাই নতুন নতুন কারখানায় বিনিয়োগ করছেন বলেও তিনি জানান।

গত চার মাসে দেশের ৩৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কোম্পানি ছিল প্রায় ৫ হাজার। ওই দুর্ঘটনার পর ১২শ থেকে ১৩শ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত চার মাসে দেশে নতুন করে ৩৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর থেকে ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী আড়াই মাসেই বন্ধ হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি কারখানা। আর ৩৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে চাকরি হারিয়েছেন ১৬ হাজার ৮৪৯ জন শ্রমিক।নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া তৈরি পোশাক কারখানাগুলো হলোÑ মালিবাগের লুমেন ড্রেস লিমিটেড (বেতন সমস্যা) ও লুফা ফ্যাশন লিমিটেড (বেতন সমস্যা); বাড্ডার সুমন ফ্যাশন গার্মেন্টস লি. (শ্রমিক বিক্ষোভ); শান্তিনগরের অ্যাপোচ গার্মেন্টস লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); আশুলিয়ার মোভিভো অ্যাপারেলস লিমিটেড (শ্রমিক বিক্ষোভ) ও ফোর এস পার্ক স্টাইল লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); রামপুরার জেনস ফ্যাশন লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); মধ্য বাড্ডার স্টার গার্মেন্টস প্রাইভেট লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); টঙ্গীর জারা ডেনিম লি. (শ্রমিক বিক্ষোভ), ফলটেক্স কম্পোজিট লি. (বেতন সমস্যা), এহসান সোয়েটার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ) ও মার্ক মুড লি. (বেতন সমস্যা); বনানীর তিতাস গার্মেন্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); গাজীপুরের ওসান ট্রাউজার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ) ও ওয়াসিফ নিটওয়্যার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); জিরানীর ঝুমা ফ্যাশন লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); বোর্ড বাজারের স্পেস গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি লি. (বেতন সমস্যা) এবং উত্তর বাড্ডার এভার ফ্যাশন লি. (কারখানা বন্ধ)।এ ছাড়া গাজীপুরের ইন্ট্রামেক্স অ্যাপারেল লি., ইন্ট্রামেক্স নিটওয়্যার লি., ইন্ট্রামেক্স সোয়েটার লি. ও ইন্ট্রামেক্স ক্লথিং কারখানায় বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ চলছিল। তবে বন্ধ হওয়ার পথে থাকা ওই ৩০ কারখানা সম্পর্কে তথ্য জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওইসব কারখানা থেকেই নতুন করে আরো ১৫ থেকে ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আলিফ অ্যাপারেল লিমিটেড নামক একটি কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। এটিসহ প্রতিষ্ঠানটি তাদের আরো দুটি কারখানা সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের মদনপুরে নিজস্ব জায়গায় ২২ লাইনের ফ্যাক্টরি করা হয়েছে। সেখানেই এখন এই তিনটি কাখানার কার্যক্রম চলছে। এতে ঢাকায় সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়েছে অন্তত দেড় হাজার শ্রমিক। বিনানোটিশে কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় ওই সময় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। পরে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here