টঙ্গীতে নির্দেশ না মেনে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান”

0
14
টঙ্গীতে নির্দেশ না মেনে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান"
এস কে সানি স্টাফ রিপোটার: বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। করোনার সংক্রামণ এড়াতে গত মঙ্গলবার থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশ অমান্য করে টঙ্গীর শতাধিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কোচিং সেন্টার তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রেখেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় টঙ্গী কিন্ডারগার্ডেন এন্ড হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। পাশেই আজিজুল উলূম মাদানিয়াহ বালিকা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতী জামাল উদ্দিন উপস্থিত না থাকায় তার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে সাংবাদিক
পরিচয় পেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ বলছে কি মাদ্রাসা বন্ধ রাখতে। পাগাড় স্কুল এন্ড কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মাত্রই ক্লাস শেষে বের হয়েছে। তবে স্কুলের কাছে পৌঁছাতেই দেখা যায় স্কুলে ঝুলছে তালা।
মধুমিতা এলাকায় রেনেসাঁ নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানায়, আজ তাদের কোচিং ছিল। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আলমগির হোসেন নিজ বাসায় ২০-২৫ জনের এক একটি ব্যাচে চলেছে এ কোচিং কার্যক্রম। আরিচপুরের আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারবেলাইজ স্কুল এন্ড কলেজেও একই অবস্থা। পরীক্ষা চলমান। জামাই বাজারে ড্রাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজ, পাগাড়ে ফিউচার ম্যাপ স্কুলের শিক্ষরা নিজ
বাসায় কোচিং সেন্টারে নিয়মিত পাঠদান চলছে। কলেজ গেইট এলাকায় মাতৃবৃত্ত কোচিং সেন্টার, অক্ষরবৃত্ত স্ট্যাডি হোম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় নামে বেনামে আরো প্রায় ২০টি কোচিং সেন্টারে চলছে পাঠদান। এছাড়া টঙ্গী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনেক স্কুলে সকালে শিক্ষার্থীরা এলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি দিয়ে তাদের বিদায় করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শিখা রানী বিশ্বাস প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বন্ধের বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি। তার পরেও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টি না মানে সরকারের বিধান অনুযায়ী শাস্তি  প্রদান করা হবে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী
পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ (অপরাধ) হোয়াইং অংপ্র মারমা বলেন, সরকারিভাবে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি ইতোমধ্যে স্ব স্ব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। পুলিশের সদস্যরা মাঠে আছে। প্রতিটি এলাকায় সচেতনতায় পুলিশ কাজ করবে।টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক  ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে। সচেতনতাই এর একমাত্র প্রতিকার হতে পারে। স্কুল কলেজে অনেক বাচ্চারা একত্রে থাকে। সেখানে কোনো
বাচ্চা যদি আক্রান্ত থাকে তাহলে সহজেই অন্য বাচ্চাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। যারা নির্দেশনা না মেনে স্কুল খোলা রেখেছেন তারা করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here