টঙ্গীতে মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ

0
9
টঙ্গীতে মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ

এস কে সানি স্টাফঃ গাজীপুর টঙ্গীএরশাদ নগর এখন মাদেকর স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।টঙ্গীর ৪৯নং ওয়ার্ডে এখন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদক প্রতিরোধে পুলিশ-প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে মাদক বিরোধী অভিজান করলেও এতে কোন লাভ হচ্ছে না। পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরণের মাদকদ্রব্য। গাঁজার পাশাপাশি এখন ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার রাজত্ব চলছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর অলি-গলিতে চলে অবাধ মাদক বিক্রি ও সেবন। বিশেষ করে উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকের করাল গ্রাসে। স্থানীয়রা বলছেন মাদকের নেশায় আক্রান্ত তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কিছু কিছু এলাকায় জনপ্রতিনিধিরাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারাই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই একটি মহল অবাধে মাদক কেনা-বেচা করছেন। জানা গেছে, এরশাদ নগরের মধ্যে২,৩,৫, ৬, ও ৮ নম্বর ব্লকের মাদকের বিস্তার সবচেয়ে বেশি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একজন মাদক ব্যবসায়ী আটক করা হলে অনেকে তদবির শুরু করে। পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বানোয়াট কথা সাজিয়ে নালিশ করা হয়। জানা গেছে, এখন গাঁজা ও বিয়ারের পাশাপাশি হরদমে চলছে মরণ নেশা ইয়াবার। যা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে ভাল ভাল পরিবারের সদস্যরা। তাই স্থানীয়রাও ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন না। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা সবাই অল্প বয়সী। এরা যে মাদকের ব্যবসায় জড়িত তা হঠাৎ কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ এরা সবাই ভাল পরিবারের সন্তান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, মাদকের ভয়ানক

থাবায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের অল্প বয়সী ছেলেরা। ধ্বংস হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে বাড়ছে মাদক সেনবকারীর সংখ্যাও। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক তুলে দিচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকদের হাতে। যার মধ্যে বেশিরভাগ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। মা-বাবার চোঁখের সামনে মাদকাসক্ত হচ্ছে যুবক ছেলে। তাই মাদকাসক্ত সন্তানদের চরম দু:শ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে অভিভাবকরা। যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে ৪৯ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর

ফারুক আহমেদ জানান বারবার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজের জীবন বাজি রেখে প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি গিয়ে গিয়ে লাল রঙের ক্রস চিহ্ন দিয়ে এসেছি এবং সকল মাদক ব্যবসায়ীদের কে ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান করেছি। অভিযান চালানোর পরও তারা অগোচরে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃআমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের সাথে পুলিশের কোন আপোষ নেই। খোঁজ পেলেই এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হবে। মাদকের ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ কঠোরভাবে মাঠে কাজ করছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here