টঙ্গীতে যৌতুক লোভী শাশুড়ি সুফিয়া রহমানের অত্যাচারে দিশেহারা পুত্রবধূ

0
66
টঙ্গীতে যৌতুক লোভী শাশুড়ি সুফিয়া রহমানের অত্যাচারে দিশেহারা পুত্রবধূ

মো: বশির আলম, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: বিবাহ মানুষের জীবনে একটি অধ্যায়। জীবন সংসার, ভবিষ্যত, উত্তরসুরী, ধর্মীয় রীতি-নীতি। আমাদের দেশে সরকারী নীতিমালাতে নারী-পুরুষ সম অধিকার শব্দটির কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে রয়েছে অনেক তফাৎ। রয়েছে যৌতুক বিরোধী আইন, আসলে কি মানা হচ্ছে? যদিও হয়ে থাকে দু’একটি হাজারে সেটি হয় সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বাস্তবে আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ছেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলেকে বিয়ের নামে যৌতুকের লোভে বিভিন্ন কৌশলে যৌতুক আদায় করে থাকেন। অসহায় মেয়ের মা-বাবারা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে কিছুটা আমাদের সমাজের বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে যৌতুক ও পন দিতে অসাধ্য হলেও বাধ্য হয়ে দিয়ে দেন। তার পরেও যৌতুক পন দিয়ে অনেক মেয়েরাই স্বামীর সংসারে সুখী হতে পারে না। বেশির ভাগ মেয়েরা শশুড় বাড়িতে নানাবিদ কারণে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেখা যায় বেশির ভাগ নারীরাই যৌতুক লোভী পরিবারের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার। একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা (আসক) ফাউন্ডেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি নাদীম হোসেন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ আসে। বেশির ভাগ নারীরাই যৌতুকের জন্য নির্যাতনের স্বীকার। নারীরা নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আইন-আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য ঘুরতে হয় দ্বারে দ্বারে। এমনি একটি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার সফিউদ্দিন রোডে অভিযান ৬৫/১, সুফিয়া মঞ্জিলে। গত ১১ অক্টোবর, শিবলী রহমান নামের এক গৃহবধূর উপর পাশবিক নির্যাতন।

নির্যাতীত নারীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মিরপুর এলাকার শাহআলীবাগ মডেল থানা এলাকায় সোলায়মান হোসেনের মেয়ে শিবলী রহমানের সাথে বিগত ২৪ সেপ্টেম্বর-২০১০ইং তারিখে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক গাজীপুরের টঙ্গীর আব্দুর রহমানের ছেলে ফয়সাল রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সংসার জীবনে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শিবলী রহমানের বাবা জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ের শশুড় বাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা ও মালামাল দাবী করেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় প্রায় ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমার মেয়ের জামাইয়ের আয় রোজগারের ব্যবস্থা না থাকায় বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়ার কথা বললে সেখানেও টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছি। আমার মেয়ের শাশুড়ি সুফিয়া রহমান বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে নানাবিদ পাশবিক নির্যাতন করতো। এক পর্যায় মেয়ের শাশুড়ি সুফিয়া রহমানের কু-পরামর্শে আমার মেয়ে শিবলী রহমানকে তার স্বামী ফয়সাল রহমান বিগত ১১ জুন ২০২০ইং তারিখে তালাক দেয়। এই সংবাদ পেয়ে আমি মেয়ের শশুড় বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সাথে আলাপ আলোচনা করিয়া মেয়ের দুটি কন্যা সন্তানের দিকে তাকাইয়া গত ২১ জুন ২০২০ইং তারিখে পুন:রায় তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করাই। কিন্তু যৌতুক লোভী এই পাষান্ড পরিবার আমার মেয়ের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। যাহা প্রায় সময় মুঠোফোনে আমার মেয়ে আমাকে জানাইতো। আমি মেয়েকে সান্তনা দিয়ে বলতাম, বাবা ধৈর্য্য ধরে সংসার করো, এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তা আর হলো না।

গত ১১ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে আমার মেয়ের স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। সেই টাকা দিতে পারবে না বললে আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চালায়। এতে আমার মেয়ে রক্তাক্ত জখম হইয়া আমাকে মুঠোফোনে জানাইলে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন শশুড় বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করিয়া টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করি। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ্য হলে বিগত ১২ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে টঙ্গী পশ্চিম থানায় আমার মেয়ে শিবলী রহমান বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শিবলী রহমানের স্বামীর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ও একজন নিকট আত্মীয় ইমরান হোসাইনকে পাওয়া যায়। তারা জানায়, শিবলী রহমানের চরিত্র ভালো না। আশপাশে বিভিন্ন লোকজনদের কাছে জানতে চাইলে এর কোন সৎউত্তর পাওয়া যায়নি। শিবলী রহমানের শাশুড়ি সুফিয়া রহমান মামলা হওয়ার আশঙ্কায় গত ১২ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যাহার নং-৩৯৯।

ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, সুফিয়া রহমান বিগত ১১ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে আমার সাথে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি হইলে আমার দুই নাতনিকে নিয়ে তাহার ব্যবহৃত জামা কাপড়সহ আমাদেরকে কিছু না বলিয়া তার বাবার বাসায় চলে যায়। কিন্তু সুফিয়া রহমান ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু ভুল তথ্য ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের দ্বারা “টঙ্গীতে স্বামীর ১৭ লাখ টাকা ও ৪১ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উদাও স্ত্রী” শিরোনামে দু’একটি অনলাইন পত্রিকায় নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমনকি বাড়ির দারোয়ান ঝিকু মিয়ার সাথে পালিয়ে গেছে শব্দ ব্যবহার করা হয়। যাহার কোন সঠিক তথ্য সুফিয়া রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে দিতে পারেনি। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সুফিয়া রহমানের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে এই পরিবার একটি মামলাবাজ পরিবার। এদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ গণস্বাক্ষর প্রদান করিয়াছে। যাহা প্রতিবেদকের হাতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই ইয়াছিন আরাফাত জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ জনকে আসামী করে মামলাটি এজাহারভুক্ত করিয়া গত ১৩ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার নং-১০। এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, এ মামলার আসামীরা পলাতক রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here