ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত ৮৮জন: ৪টি স্কুল নদীগর্ভে কুড়িগ্রামে বন্যায় ৩কোটি টাকার মাছের ক্ষতি

0
8
ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত ৮৮জন: ৪টি স্কুল নদীগর্ভে কুড়িগ্রামে বন্যায় ৩কোটি টাকার মাছের ক্ষতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বিপদসীমার নীচে নামলেও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মৎস ও কৃষি বিভাগে। বন্যার পানিতে মারা গেছে ৮জন। বিধস্ত হয়েছে ৪টি বিদ্যালয়। এছাড়াও ৮৮জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময়সভায় এসব খবর উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন। তিনি জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এসব খবর বেরিয়ে আসে। মতবিনিময়সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম

খান, সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু প্রমুখ। এসময় জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়সভায় সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলায় একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কুড়িগ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এর রাশ টানার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপন অত্যন্ত জরুরী। এছাড়াও সিভিল সার্জন জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ হাজার ২২৯জনের। ফলাফল পাওয়া গেছে ২ হাজার ৪৩৬জনের। মোট আক্রান্ত হয়েছে ২০৮জন। সুস্থ হয়েছে ১১৬জন। মারা গেছে ৪জন। এর বাইরে বন্যার ফলে ৮জন মারা গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এছাড়াও ৮৮জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি মতবিনিময়সভায় জানান। জেলা মৎস কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, জেলায় ১৩৭ হেক্টর আয়তনের ৮৫৪টি পুকুর পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়েছে।

এরফলে ১৯০টন মাছ ও ৩৮ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার পোনা ভেসে গেছে। প্রায় ২০ লক্ষ টাকার পুকুর পাড়ের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার। বন্যার ফলে জেলার নিবন্ধিত ১৮হাজার মৎমজীবীর হ্যাচারী উৎপাদন ও বিপনন হুমকীর মুখে পরেছে। তবে তিনি আরো জানান, জেলার ২২২টি বিলের মধ্যে ২০টি বিলে মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকার পোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, আমন ধানের বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে আনতে কৃষক পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা স্থাপন করা হবে। বীজতলা তৈরীতে কৃষকের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে ১৯৩৫ টাকা করে প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম তার কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি জানান, উলিপুর-

চিলমারী ও রৌমারী-রাজিবপুরে দুটি স্থায়ী তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ করোনার কারণে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখনো ঠিকাদারদের ৭০ কোটি টাকার বিল বাকী রয়েছে। এছাড়াও চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে ভাঙন ঠেকাতে ৪ হাজার বস্তা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি সাহেবের আলগা ও কর্তিমারীতে ভাঙন ঠেকাতে মেরামতকরণ কাজ করা হবে বলে তিনি মন্ত্রীকে জানান। এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম জানান, চলতি বন্যায় ৪৩টি স্কুল পানিবন্দী হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ১০টি স্কুল। অপরদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বন্যায় ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে বিলিন হয়ে গেছে। একটি ভাঙনের মুখে রয়েছে। এছাড়াও ১৫২টি বিদ্যালয়ের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ২৪টি স্কুল বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাঙনকৃত স্কুলগুলোর মধ্যে দুটি উলিপুর ও অপর দুটি রৌমারী উপজেলার। স্কুল ৪টি হল চর বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলদমারা সরকারি

প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও উলিপুরের সুখেরবাতির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন জানান, কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। মতবিনিময়সভায় অনেক সমস্যার কথা জানা গেল। এছাড়াও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উপস্থিত সকলেই কুড়িগ্রামে পিসিআর ল্যাবের কথা বলেছেন। সেটি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হবে। এছাড়া জেলার ৩১৫ কিলোমিটার নদীর তীর স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য কাজ করা হচ্ছে। আশা করি আগামি ৫/৭বছরের মধ্যে আমরা ফলাফল পাবো। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে যাতে লেখাপড়া বিঘ্নিত না হয় এজন্য সংসদ টিভি ছাড়াও আমরা অনলাইনে ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে আধূনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো। এ ব্যাপারে সরকার নানান পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here