তানোরে দেড়শ বিঘা ফসলী জমি অনাবাদি দায় নিবে কে ?

0
8
তানোরে দেড়শ বিঘা ফসলী জমি অনাবাদি দায় নিবে কে ?

আলিফ হোসেন,তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে কতিপয় কর্মকর্তার খাম-খেয়ালীপনায় তিন ফসলী প্রায় দেড়শ’ বিঘা কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, যেখানে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন এক ছটাক কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন, অকৃষি কাজে ব্যবহার বা অনাবাদি রাখা যাবে না। সেখানে প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আমলেই নিচ্ছেন না, এমনকি তাদের খাম-খেয়ালীপনায় প্রায় দেড়শ’ বিঘা তিন ফসলী কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে এর দায় নিবে কে ? তানোর পৌরসভার কাঁসারদিঘি-বুরুজ খাড়ির দুই ধারে এসব ফসলী জমি অনাবাদি হবার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহাব হোসেন লালু মিঞা বলেন, এখানে একটি সরকারী কারিগরি কলেজ হচ্ছে কলেজের মাঠ ভরাট করতে প্রচুর মাটি প্রয়োজন, তবে আশপাশে কোনো মাটি নাই। তিনি বলেন, খাল পাড়ের মাটি দিয়ে কলেজের মাঠ ভরাট করা হলে একদিকে কৃষকের ফসলি জমি উদ্ধার হবে, অন্যদিকে কলেজের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে, তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার দাবি জানান।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তানোর পৌরসভার কাঁসারদিঘি-বুরুজ প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪ মিটার প্রস্ত একটি অকেজো খাল দীর্ঘদিন যাবত প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কিন্ত্ত কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই খাল পুনঃখনন করেছে। তবে ৪ মিটার প্রস্ত খাল প্রায় ১৬ মিটার প্রস্ত করে খনন করা হয়। আর খননের সময় বিপুল পরিমাণ মাটি খাল পাড়ের কৃষকের ফসলী জমির উপর পাহাড় সাদৃশ্যে আকারে স্তুপ করে রাখা হয়। কথা ছিল খাল খননের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে এসব মাটি সরিয়ে নিবেন। কিন্ত্ত কাজ শেষ করার পর এসব মাটি না সরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এদিকে টানা বৃস্টিতে খাল পাড়ের এসব মাটি খাল ও পাড়ের ফসলী জমিতে পড়ে ভরাট হতে থাকে। এতে প্রায় ৪ কিলোমিটার খালের দু’পাড়ে এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষকের প্রায় দেড়শ’ বিঘা তিন ফসলী কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। আকচা গ্রামের মৃত হাছেন আলীর পুত্র আব্দুল মজিদ, মেছের আলীর পুত্র মিঠু, ফাজিল আলীর পুত্র ইয়াছিন আলী ও আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই খাল পুনঃখননে তাদের কোনো উপকার তো হয়নি বরং খাল খননের মাটিতে এলাকার প্রায় দেড়শ’ বিঘা ফসলী জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, এসব মাটি সরিয়ে কৃষি জমি উদ্ধার করতে গেলে উপজেলা প্রশাসন থেকে বাধা দেয়া হচ্ছে এখন তারা মহাবিপাকে না পারছেন মাটি সরাতে, না পারছেন আবাদ করতে। তারা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিনা খরচে এখানকার মাটি দিয়ে আকচা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করা হয়েছে, এখন তারা কৃষি জমি উদ্ধারে মাটি সরাতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে, অথচ পাউবো’র কোনো বাধা নাই বরং তারা দ্রুত এসব মাটি সরিয়ে নিতে কৃষকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, তাহলে উপজেলা পশাসনের বাধা কেনো ? এবিষয়ে তারা সংশ্লিস্ট বিভাগের উধর্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here