সাংবাদিক তারেক হাবিবের উপর হামলার প্রধান আসামী এমদাদুল ইসলাম সোহেল কারাগারে

0
3
সাংবাদিক তারেক হাবিবের উপর হামলার প্রধান আসামী এমদাদুল ইসলাম সোহেল কারাগারে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ শহরের প্রধান রাস্তায় সদর মডেল থানার নিকটে শনি মন্দিরের পাশে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে সাংবাদিক তারেক হাবিবের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলার অন্যতম প্রধান আসামী এমদাদুল ইসলাম সোহেল আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থণা করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে এমদাদুল ইসলাম সোহেলকে কারাগারে প্রেরণ করেন। এর আগে একই ঘটনায় অপর আসামী জুয়েল চৌধুরীকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এ মামলার বাকী আসামী হবিগঞ্জ শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র আরিয়ান আহমেদ নোমান মিয়া (২৫), শায়েস্তানগর এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র শাওন মিয়া (২৬), ২নং পুল এলাকার আরজত আলীর পুত্র উজ্জল মিয়া (২৪)সহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। হবিগঞ্জ আদালত পরিদর্শক মোঃ আল আমিন জানান, গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে সোহেলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানার পাশে শনির আখড়ার সামনে সন্ত্রাসী সোহেলের নেতৃত্বে সাংবাদিক তারেক হাবিব-এর উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী বাহিনী।

জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে “দৈনিক আমার হবিগঞ্জ” পত্রিকা অফিসে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলে উল্লেখিত স্থানে পৌঁছা মাত্রই আগে থেকে উৎ পেতে থাকা সুহেল, জুয়েল, শাওনসহ আরো কয়েক জন দুর্বৃত্ত তার উপর রড দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় তারেক হাবিব গুরুতর আহত হন। পরে আশেপাশের মানুষ এসে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এই বিষয়ে সাংবাদিক তারেক হাবিব জানান, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সুহেলের নেতৃত্বে মাস্ক পড়া একদল দুর্বৃত্ত আমার উপর হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, ‘এমপি সাবের বিরুদ্ধে আর নিউজ করবিনি, এই দ্যাখ মজা’ বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার সাথে থাকা এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও মানিব্যাগে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় সুহেলের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা। তবে সংবাদ সংক্রান্ত্র জেরে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক তারেক হাবিব। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে গুরুতর আহত সাংবাদিক তারেক হাবিবকে দেখতে আসেন, সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, হবিগঞ্জ

সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী, ওসি তদন্ত দৌস মোহাম্মদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম (পিপি), জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক অনুপ কুমার দেব মনা, হবিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পীযুষ চক্রবর্তী, বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী ও সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরীসহ হবিগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়া ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী এমপি মোবাইল ফোনে আহত তারেক হাবিবের খোঁজ খবর নেন। এদিকে, তারেক হাবিবের উপর হামলার খবর শুনে ইংল্যান্ড (লন্ডন) থেকে ছুটে আসেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক প্রকৌশলী সুশান্ত দাস গুপ্ত। ঘটনারদিন তাৎক্ষণিক ভাবে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা এফআইআর অন্তভুক্ত করে আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান পরিচালনা করে সদর থানা পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here