হাওরে সরকারি ধান ক্রয়ে অনিয়ম : মৃত ব্যাক্তির নামেও রয়েছে কার্ড

0
17
হাওরে সরকারী ধান ক্রয়ে অনিয়ম : মৃত ব্যাক্তির নামেও রয়েছে কার্ড

কামাল হোসেন, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওর এলাকায় অনাবৃষ্টি ও খড়ায় হাওরে ধানের ফলন কম হওয়া ও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূলে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে কৃষককূলে বইছে আনন্দের হাসি সেই সাথে রয়েছে কিছুটা হতাশা আর না পাওয়ার ব্যাথা।

ঠিক এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে তাহিরপুর উপজেলায় এ উপজেলায় সরকার কতৃক ১৪শ’ ১৫মে.টন ধান ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন বালিজুরী, বাদাঘাট উত্তর, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, শ্রীপুর দক্ষিণ, তাহিরপুর সদরে মোট ৩০ হাজার কৃষকের কাছ থেকে এ ধান সংগ্রহ করা হবে। আর যে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারবেন তাদের উপজেলা কষি অফিস ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত হতে হবে।

এ প্রক্রিয়ায় উপজেলার সকল কৃষক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন। সেখান থেকে লটারীর মাধ্যমে ৩০ হাজার কৃষক বাছাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ উপজেলার একটি প্রভাবশালী চক্র টাকার বিনিয়মে লটারীরর মাধ্যমে কৌশল করে তাদের পছন্দের কৃষকদের লটারীতে বিজয়ী করে নিবন্ধন প্রদান করেছেন।

এছাড়াও নিবন্ধন তালিকায় একই পরিবারের একাধিক লোক এমনকি মৃত ব্যাক্তির নামেও কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার ৪নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবু তাহের, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সম্রাট মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আহসান হাবিব, ৪,৫,৬ নং সংরক্ষিত সদস্যা সুষমা জাম্বিল এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ওয়ার্ড থেকে পাঁচ শতাধিক লোক স্ব শরীরে গিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও একজনের নামও লটারীতে আসেনী। অথচ যারা আবেদন করেনী তাদের নিবদ্ধন হয়েছে কিভাবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এতে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে, লটারীর নামে আমাদের সরলমনা কৃষকদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবু তাহের বলেছেন, আমার ওয়ার্ডে একই পরিবারের তিনজনকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন, পুরানঘাট গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে আ. ছাত্তার তার ছোট ভাই আ. মোতালেবের ছেলে কাজল মিয়া ও তার আপন ছোট ভাই আ. গফফারের স্ত্রী ছাবিনা।

৪নং ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী বলেন, অমার ওয়ার্ডে একই পরিবারের দুজনের নাম নিবন্ধিত হয়েছে তারা হলেন, মাহারাম গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল মিয়া ও তার আপন চাচাত ভাই গণি মিয়ার ছেলে জমসেদ মিয়া।
৬নং ওয়ার্ড সদস্য স¤্রাট মিয়া বলেছেন, আমার ওয়ার্ডের রাজাই গ্রামের ১৭১নং কার্ডের গবীন্দ্র হাজং গত এক বছর আগেই মারা গেছেন অথচ তার নামেও কার্ড ইস্যু হয়েছে।

৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেছেন, আমার ওয়ার্ডের ব্রাক্ষণগাও গ্রামের ০৪৯৫নং কার্ডধারী আ. মালেক তিন বছর আগে মারা গেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম অভিযোগ করে বলেছেন, নিবন্ধনের আবেদন স্ব-শরীরে গিয়ে উপস্থিত হয়ে করার কথা আমি কৃষকদের স্ব শরীরে পাটাই। পরে গিয়ে দেখি সকাল ১০টায় রেজিষ্টার খোলার আগেই প্রতি ওয়ার্ডের কৃষকরা পৌছার আগেই প্রতি ওয়ার্ডে ৫০/৬০জনের নামের তালিকা আগেই নিবন্ধন করা হয়ে গেছে।

এ বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী আবুল হাসানসহ আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানানোর পর আমার ইউনিয়নের নিবন্ধনের তালিকা নতুন করে করার নির্দেশ দেন তিনি। সেখানেও তারা দুর্নিতী করে একই পরিবারে তিন জনের নাম এবং দুইজন মৃত ব্যাক্তির নামেও কার্ড ইস্যু করেছেন। এখনও তারা কিছু সংখ্যক কার্ড নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা দিয়ে বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাজটি মূলত খাদ্য অধিদপ্তরের আমি শুধু সহযোগীতা করেছি মাত্র।

উপজেলা খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনধন চন্দ্র দাস তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু মাত্র ধান ক্রয়ের মালিক আমার কাজ তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাজ থেকে ধান ক্রয় করা। উপজেলা ক্রয় কমিটি রয়েছে তারাই তালিকা প্রনয়ন করেছেন উনাদের তালিকা অনুযায়ী আমি ধান ক্রয় করছি। তালিকা তৈরির বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেছেন, মৃত ব্যাক্তিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নিতী ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হলে তালিকা বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here